ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য

সাইবার সিকিউরিটি » ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা (ফেসবুক)
→ ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি

ফেসবুকে আপনার তথ্য কিভাবে আছে, আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে কারা রয়েছে, আপনার শেয়ার করা পোস্ট কারা দেখতে পায় কিংবা আপনার পোস্টে কারা কমেন্ট করতে ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর নির্ভর করে আপনার ফেসবুক একাউন্টের সুরক্ষা। নিম্নে আপনার ফেসবুক একাউন্ট সুরক্ষার জন্য কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হলো –১) অপরিচিত ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করা থেকে বিরত থাকুননতুন কোন রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করার আগে তার প্রোফাইলে ঢুকে ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ড’ লিস্টে কারা রয়েছে সেটা দেখে নিয়ে তারপর রিকোয়েস্টটি এক্সেপ্ট করুন। মিউচুয়াল ফ্রেন্ড থাকার অর্থ হলো ঐ ব্যক্তিটি আপনার অলরেডি যারা বন্ধু রয়েছে তাদের পরিচিত। এমন যদি হয় যে, রিকোয়েস্ট পাঠানো ব্যক্তিটি একেবারেই আপনার অপরিচিত, অর্থাৎ কোন মিউচুয়াল ফ্রেন্ডই নেই, তাহলে ঐ ব্যক্তির রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট না করাই ভালো।২) প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক রাখুনসাইবার অপরাধীরা আপনার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে আপনার নামে ফেইক বা ডুপ্লিকেট আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি ভিডিও শেয়ার করে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। এধরণের বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আপনার প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক করে নিন।ফেসবুক ওয়ালে ঢুকে উপরে ‘update info’ তে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত তথ্যের পাতা খুলবে। এখানে ডানদিকে বিভিন্ন তথ্যের ক্যাটাগরি রয়েছে যার মধ্যে প্রাইভেসি সেটিংসও রয়েছে। এই প্রাইভেসি সেটিংস থেকে আপনার পোস্ট আপনি কার সাথে শেয়ার করতে চান কিংবা আপনাকে কারা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবে কিংবা মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠাতে পারবে এগুলো নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।৩) শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুনফেসবুকে দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার কারনেই মুলত আইডি হ্যাক হয়। পাসওয়ার্ড হিসেবে আপনার ফোন নাম্বার, জন্ম তারিখ, মোবাইল নাম্বার কিংবা অরিজিনাল নাম ব্যবহার করেলে খুব সহজেই একজন দক্ষ হ্যাকার আপনার একাউন্টে ঢুকে আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। এজন্য শব্দ, সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করে আপনার পাসওয়ার্ড সেট করুন। অন্যদিকে একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার কারণেও আপনার একাউন্ট ঝুকির মুখে পড়তে পারে।      ৪) অন্য ডিভাইস ব্যবহার শেষে আইডি লগ আউট করুনঅন্যের ডিভাইসে ফেসবুক ব্যবহার করলে, প্রতিবার ব্যবহার শেষে অবশ্যই আইডি টি লগ আউট করুন। অন্যথায় আপনার পরিজনরাও আপনার সাথে মজা নেয়ার জন্য আপনার ফিড পোস্ট বা কমেন্ট করতে পারে।৫ ) অ্যাপস ব্যবহারে সতর্ক থাকুনঅ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন কুইজ, ফটোল্যাব, পুরষ্কার ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়েও ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। এমনকি আপনার ফেসবুক আইডি টিও হ্যাক হতে পারে। তাই বিশ্বাসযোগ্য না হলে এ ধরণের অ্যাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।ফেসবুকের নিজস্ব প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিংস ব্যবহার করেই আপনি আপনার ফেসবুক আইডি টিকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে পারেন। আরও বিস্তারিত জানতে ফেসবুকের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি অপশনগুলো দেখে নিন।

ফেসবুকে কিভাবে সাইবার ক্রাইমের শিকার হতে পারেন
→ ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এখন আমাদের দৈন্দন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে পড়েছে। সকালে নাস্তার টেবিলে কিংবা অফিসে কাজের ফাঁকে এমনকি ঘুমুতে যাওয়ার আগেও একবার ফেসবুকে চোখ না বোলালে যেন ঘুমই আসে না। কিন্তু এত সময় জুড়ে যে প্লাটফর্মের সাথে আমাদের সময় কাটে তার ব্যাপারে আমরা কতটুকু জানি। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণা, হয়রানি, হতাকিং কিংবা স্পামিং এর মতো অপরাধ আজকাল ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটছে তার কতটুকুই বা আমরা জানি। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কিভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে উল্লেখিত অপরাধগুলো সংঘটিত হয়।ক) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে হয়রানিফেসবুকে সবচেয়ে বেশি যে অপরাধটি ঘটে তা হলো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের হয়রানি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –ফেক/ডুপ্লিকেট আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও শেয়ার করামানহানির উদ্দেশ্যে বিকৃত তথ্য ও ছবি ব্যবহার,এছাড়া মেসেঞ্জারে উত্ত্যক্ত করা বা যৌন হয়রানি ইত্যাদিখ) একাউন্ট হ্যাক হওয়াফেসবুকের সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা হলো একাউন্ট হ্যাক হওয়া। অর্থাৎ আপনার একাউন্ট এর সকল তথ্য অন্য কোন ব্যক্তি চুরি করে সেগুলো ব্যবহার করে অপরাধমুলক কর্মকান্ড সংঘটিত করা।

মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপে কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন
→ ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি

স্মার্টফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেরনের ক্ষেত্রে মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপের ব্যবহার সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। অ্যাপগুলো  এতটাই জনপ্রিয় যে স্ক্যামাররা আপনার টাকা চুরির চেষ্টা না করে থাকতে পারে না। মোবাইল পেমেন্টে অ্যাপগুলো কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে স্ক্যামারদের কাছে টাকা যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন এ বিষয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো। মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ কিভাবে কাজ করে বিকাশ, নগদ, রকেট, শিওর ক্যাশ, পিওর ক্যাশ, ওকে ওয়ালেট ইত্যাদি  আমাদের দেশের জনপ্রিয় মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি হয়তো এর দু’একটা ইতোমধ্যে ব্যবহারও করে থাকবেন। যদি না করে থাকেন তাহলে আপনাকে দু’একটি তথ্য দিয়ে রাখি। এ ধরণের মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। এই একাউন্টটি আপনার ব্যাংক একাউন্ট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের সাথে লিংক করা থাকে। একবার একাউন্টটি সেট করা হলে, এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারবেন। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার পরিচিত মানুষদের টাকা পাঠাতে পারেন এ জাতীয় অ্যাপ দিয়ে। টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন ভুল মানুষের কাছে টাকা চলে না যায়। এজন্য টাকা পাঠানর আগে প্রাপকের মোবাইল নাম্বার বা একাউন্ট নাম্বারটি ভালোভাবে চেক করে নিন। অন্যরাও আপনাকে টাকা পাঠানোর কাজে এই  অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে। যখন এই পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে আপনাকে কেউ টাকা পাঠায় সে টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে না গিয়ে আপনার অ্যাপেই একাউন্ট ব্যলান্স হিসেবে প্রদর্শিত হয়। এরপর এ টাকা দিয়ে আপনি কি করবেন তা আপনিই ঠিক করতে পারেন। সচরাচর মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপগুলো আপনাকে যেসব সেবা প্রদান করে তা হলোঃ মোবাইল পেমেন্ট একাউন্টেই টাকা জমা করতে পারেন। অ্যাপ থেকে কাউকে টাকা পাঠাতে পারেন।আপনার ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারেন। কোন কিছুর মুল্য পরিশোধের জন্য পেমেন্ট করতে পারেন। স্ক্যামারদের হাতে থেকে অ্যাপ একাউন্ট সুরক্ষিত রাখার উপায়ঃ  এবার আসুন জেনে নেয়া যাক, স্ক্যামারদের কাছে টাকা পাঠানোর হাত থেকে কিভাবে আপনার একাউন্টটিকে সুরক্ষিত রাখবেন।        আপনার একাউন্টের টাকা চুরির উদ্দেশ্যে স্ক্যামাররা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প তৈরি করছে। কিভাবে আপনাকে ধোকা দেয়া যায় তা নিয়ে সে ভেবেই চলেছে। তারা যেসব মিথ্যা দিয়ে আপনাকে ঠকাতে পারে তা হলো  আপনি কোন পুরষ্কার জিতেছেন এবং তা সংগ্রহ করার জন্য তারা আপনার কাছে কিছু ফি চাইতে পারে। আপনার নিকট কোন ব্যক্তি সমস্যায় পরেছেন এবং তাদের কিছু টাকা প্রয়োজন। তারা টেক সাপোর্ট থেকে ফোন করেছে এমন বলতে পারে এবং আপনার অ্যাপ কিংবা একাউন্টের কোন একটি মিথ্যা সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার কাছে টাকা চাইতে পারে।      আবার এমনও হতে পারে কেউ আপনার প্রতি তার লাভ ইন্টারেস্ট শো করল এবং তার কিছু টাকার প্রয়োজন। মনে রাখবেন, স্ক্যামাররা খুব দ্রুত আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়ার চেষ্টা করবে এবং আপনি যতক্ষণ রাজি না হচ্ছেন সে চেষ্টা করেই যাবে। এরপর তারা আপনাকে ভিন্ন কোন নাম্বার বা একাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য বলবে। এমনকি তারা কোন একটি মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপেই আপনাকে টাকা পাঠানোর জন্য বলতে পারে। এজন্য টাকা চেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন মেসেজ বা ইমাইল আসলে সে লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।  আগে আপনার অ্যাপে ঢুকে চেক করুন কোন টাকা পাঠানোর রিকোয়েস্ট এসেছে কিনা। যদি না এসে থাকে তাহলে ধরে নিন এটি একটি ফিশিং স্ক্যাম ছিল। যদি ভুল করে টাকা পাঠিয়েই ফেলেন তাহলে কি করবেন? যদি ভুল করে ফিশিং স্ক্যামের জালে ধরা পরেই যান, যদি টাকা পাঠিয়েই বসেন তাহলে মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপের সার্ভিস সেন্টারে রিপোর্ট করুন এবং এই ট্রানজেকশন রিভার্স করার জন্য অনুরোধ করুন।   

অনলাইন ট্রাকিংও কি ও এটি ব্লক করার উপায়
→ ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার রুচি ও আগ্রহের সাথে মিল রেখে কিভাবে অনলাইন অ্যাডগুলো আপনার সামনে হাজির হয়? কিংবা কখনো কি চিন্তা করেছেন কিভাবে এত এত ভিজিট এবং এত ডিভাইস পরিবর্তনের পরও ওয়েবসাইটগুলো আপনার পছন্দগুলো মনে রাখে? এসব প্রশ্নের এক কথায় জবাব হতে পারে ‘কুকিজ’ কিংবা আরও অন্যান্য যেসব অনলাইন ট্রাকিং মেথড যেমন ডিভাইস ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ক্রস ডিভাইস ট্রাকিং রয়েছে সেগুলো।আপনি যখন কোন সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন, এসব সফটওয়্যার বা ব্রাউজারে সেভ করা ইনরমেশনগুলোকেই কুকিজ বলা হয়। আপনার ওয়েব ব্রাউজিং এর গতিবিধি ঠিক করতে এবং আপনাকেই উদ্দেশ্য করে অ্যাড পাঠানোর ক্ষেত্রে এসব ইনফরমেশন ব্যবহার করা হয়।অনলাইন ট্রাকিং ব্লক করবেন কিভাবে?ব্রাউজারে ট্রাকার ব্লকিং প্লাগইন ব্যবহার করে আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে ট্রাকিং কোম্পানির কাছে তথ্য যাওয়া বন্ধ করতে পারেন। অবশ্য এই প্লাগ ইন ব্যবহারের ফলে একই সাথে আপনার ব্রাউজারে অ্যাড আসাও বন্ধ হয়ে যাবে। ইন্টারনেটে আপনার গতিবিধি ট্রাক করার জন্য যেসব কুকিজ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইনফরমেশন ট্রাকিং কোম্পানিগুলো যোগাড় করে এই প্লাগ ইন সেই তথ্য সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়।ট্রাকার ব্লকিং খুঁজে পেতে সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ‘Tracker blocker’ লিখে সার্চ দিন। প্রাপ্ত প্লাগ ইন গুলোর মধ্যে কোনটি আপনাকে বেশি স্যুট করে তা কম্পেয়ার করুন। যেমন, কিছু প্লাগ ইন আছে যেগুলো বাই ডিফল্ট ট্রাকিং ব্লক করে, আবার কিছু কিছু প্লাগ ইন আছে যাদেরকে ঠিক করে দিতে হয় আপনি কি ব্লক করবেন আর কি ব্লক করবেন না।মনে রাখবেন, আপনি যদি ব্লকিং সফটওয়্যার ইনস্টল করে থাকেন তাহলে মিজারমেন্ট ও অ্যাডভার্টাইজমেন্ট রেভিনিউ এর জন্য যেসকল ওয়েবসাইট থার্ড পার্টি ট্রাকিং কোম্পানির উপর নির্ভর করে সেগুলো তাদের ওয়েবসাইট ভিজিটে আপনাকে বাধা দেবে। তবু আপনি একটি ভিন্ন ব্রাউজারে যেখানে ব্লকিং এনাবেল করা নেই, সেখান থেকে এসব সাইট ওপেন করতে পারবেন অথবা আপনি চাইলে সেসব সাইটের ব্লকিং ডিজাবেলও করে দিতে পারেন।

হেল্প ডেস্ক